Dr. Shamsul Arefin
MBBS, Shaheed Sehrawardy Medical College
Author: Double Standard.
▪️ -‘আচ্ছা তােরা রাজনীতি করতে চাস কেন? একজন একজন করে বল।
-‘ভাই, আমি ইদুরের মতাে বাঁচতে চাই না।
হিদায়াত, পথের খোঁজ। কোন পথ? কেমন সে পথ? পিচঢালা, না মেঠো, না ডিজিটাল? সে পথ বড় সহজ, বড় আরাম। ছােটবেলা থেকে আমাদের মাথায় পুঁজিবাদী,‘স্বল্পমূল্যে শ্রমসন্ধানী’ সিস্টেম একটা কথা শিখিয়ে দিয়েছে—লাইফ ইজ নট অ্যা বেড অব রােজেজ। জীবনটা ফুলের বিছানা নয়। জীবন খুব কঠিন, টিকে
থাকার জন্য প্রতিযােগিতা করতে হবে। বস্তুবাদী সমাজে বস্তু কেনার যােগ্যতা চাই,হলে কমফোর্ট জোনে থাকতে পারবা না। লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘােড়ায় চড়ে সে। গাড়ি-বাড়ি-নারী-কাঁড়িকাঁড়ি কড়ি-ছড়ি এগুলাের জন্য দৌড়াও, ভাগাে।
আরেকটা পথ আছে, কমফোর্ট জোনে ঢােকার পথ, আরাম-শান্তি-সুখের পথ।
কমফোর্টের জন্য যে পথে উন্নত বস্তু লাগে না, কুঁড়েঘরেই-অর্ধাহারেই-হাঁটাপায়েই সেখানে কমফোর্ট মেলে। অর্জনের প্রতিযােগিতা নেই সেপথে। শুধু আছে বিসর্জনের
প্রতিযােগিতা। বস্তু ভােগের মাঝে তৃপ্তি’ আগের ওই পথে। আর এই পথে
–‘ভােগে নয়, ত্যাগেই সুখ’, আসল সুখ।
এই পথের সন্ধান পাওয়াকেই বলছি হিদায়াত, যে পথের দুধারে ফুলের মতাে ফুটে থাকে সুখেরা। আমি কোনাে কিতাবী নীতিবাক্য বা কম্যুনিজমীয় ইউটোপিয়া বা ঠাকুরমার ঝুলির কথা বলছি না। রেগুলার শেভের আড়ালে পাকা দাড়ির গােড়ার মতো বাস্তব, কড়া মেকআপের আড়ালে প্রৌঢ়ার ভাঁজ পড়া চামড়ার মতো বাস্তব এক পথের অস্তিত্ব জানাচ্ছি আপনাদের, যেখানে সুখের অভিনয় করে প্রতি মুহূর্তে
মরতে হয় না। সে রাস্তায় দম নিলেও ঘ্রাণ পাওয়া যায় সুখের, এতটাই সস্তা
সেখানে সুখ। একটা ছেলের গল্প শােনাবাে আজ।
‘ছেলেটি’র জগতটাও টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত-সন্তানের জীবন-দর্শনে ঠাসা। পুঁজিবাদের সেবা করে নিজের কমফোর্ট জোন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পুঁজিবাদের ঠিক করে দেওয়া শিক্ষাটা ভালােমতাে আয়ত্ত করা জরুরি। যেখানে ভালাে বাবা, ভালাে
স্বামী, ভালাে সন্তান কীভাবে হতে হয়—তা নেই। ভালাে চাকর হয়ে কীভাবে ভালাে চাকরি করা যায়, শুধু সেটা শিখলেই যথেষ্ট। এরপর বস্তু আহরণের জন্য এমনভাবে
চাকরগিরি করবে, যাতে সন্তান বাপ-মাকে কাছে না পায়। বস্তুর জন্য যৌতুক চেয়ে বউ পেটাতেও না বাধে। আর, বুড়াে বাপের সম্পত্তি লিখে নিয়ে আশ্রমে পাঠিয়ে নিজের কমফোর্ট জোন নিশ্চিত করা যায়। ভালাে বাবা, ভালাে স্বামী, ভালাে
সন্তান হওয়া শেখেনি যে, শিখেছে শুধু বস্তু লাগবে নিজের কমফোর্টের জন্য গাড়ি-বাড়ি-আইফোন-বাইক। সে জগতে বস্তুই সব, বাকি সব মিথ্যে।
তাে, দক্ষ চাকর হবার জন্য ছেলেটা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাে। সেখানে নাকি চাকর হবার সব গুণগুলাে বিকশিত হয়—মনিবের ভাষায় পটাপট কথা বলা,কো-কারিকুলার্স, সুস্থ-সবল-বেশি কর্মক্ষম চাকর তৈরি। ভালাে অর্থেই বললাম।
ডানপিটে ছেলেটা কঠোর নিয়মের মাঝে আবিষ্কার করে বসল এক মহাসত্যনিয়ম ভাঙার মজা। জামাআতের সাথে মাগরিবের নামাজ পড়াটাও একটা নিয়ম ছিল সেখানে। আল্লাহ তাকে মাফ করুন।
আবারও ওই নিয়মের ভয়েই আইএসএসবি-তে গ্রিনকার্ড পেয়েও গেল না ছেলেটা।
ভার্সিটি লাইফ এনজয় করতে হবে তাে। ফ্রেন্ডস-আড্ডা-ঘােঘারাঘুরি-বিপরীতলিঙ্গের সান্নিধ্য—এসব ছেড়ে আর্মিতে গিয়ে যৌবন বরবাদ করার কোনাে মানে হয়? শেষমেশ স্বপ্নের ঢাবি ক্যাম্পাসে কাঙ্ক্ষিত সাবজেক্ট (জেনেটিক্স) না পেয়ে
একপ্রকার হতাশ হয়েই ভর্তি হলাে ঢাকার এক সরকারি কসাইখানায়। কাহিনি শুরু
হচ্ছে এখন...
প্রথম_ফোঁটা
- বাবা, এদিকে আয়, দেখে যা’
‘জি আব্ব, আসছি...'
‘ এই দ্যাখ, এই লােকটা ডাক্তার। দ্যাখ কীভাবে অন্য ধর্মগ্রন্থ থেকে রেফারেন্স দেয়। একদম মুখস্থ। শােন একটু’
‘ তাই নাকি? আচ্ছা লােক তাে! '
টিভিতে দাড়িওয়ালা, কোট-টাই পরা হালকা-পাতলা গড়নের এক লােক। 'স' উচ্চারণে একটু সমস্যা, নাম্বার ওয়ান ’ বলার সময় বুড়াে আঙুল আগে তােলে।
খ্রিস্টান পাদরি যেন আজন্ম-বােবা, হিন্দু পণ্ডিত যেন পালাতে পারলে বাঁচে। ছেলেটা মুগ্ধ হয়ে দেখে আর ভাবে — আমিও তাে ডাক্তারি পড়ি, আমিও তাে পারি এমন
করে মানুষের হিদায়াতের উসিলা হতে।
ছেলেটা কল্পনায় স্টেজে লােকটার জায়গায় নিজেকে ভাবে। নাম্বার ওয়ান ’ বলার সময় বুড়াে আঙুল আগে দিয়ে। পটাপট বলে চলে বাইবেল-গীতা-ঋগবেদ
কুরআনের চ্যাপ্টার-ভার্স নাম্বার। আমাদের ছেলেটার কুরআনের অনুবাদ পড়ার আগেই ‘ ইংরেজি একটা বাইবেল ’ আর ‘ গসপেল অব বার্নাবাস শেষ হয়ে গেল।
ডাউনলােড হয়ে গেল বেদের সব খণ্ডই, ‘ আফ্রিকান ধর্মগুলাের পবিত্র শ্লোক ’ আর ‘প্রাচীন চৈনিক ধর্মপুস্তক”। “ডেড সি স্ক্রল ’ নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখত, আর সুরিয়ানি
ভাষায় (আরামায়িক, ইসা আলাইহিস সালাম-এর নিজের ভাষা) লিখত খাতার মলাটে নিজের নাম। এভাবেই চলছিল ফার্স্ট ইয়ারের সােনালি দিনগুলাে।
ভালাে চাকর হবার প্রতিযােগিতা কেড়ে নিল সব। স-অ-অ-অ-ব। ভয়ংকর সব বই,হােস্টেল লাইফ আর কিন্নরী হাসিগুলাে ‘ আসল ’ রাস্তায় ফিরিয়ে নিল ছেলেটাকে।
হঠাৎ একদিন দেখল, ভার্সিটি লাইফ যতটা হৈ-হুল্লোড় হবার কথা ছিল, অতটা আর হচ্ছে না। মেডিকেল কলেজের টিচারদের কড়া শাসন আর প্রথম ব্যাচের হম্বিতম্বিতে।
সব বরবাদ হচ্ছে, কিন্ডারগার্টেন বানিয়ে ফেলেছে একদম। এভাবে তাে আর চলে না। এই প্রেসার থেকে উত্তোরণের পথও পাওয়া গেল — ছাত্ররাজনীতি। সীনা টান টান করে হাঁটা। টিচার-সিনিয়র-জুনিয়রদের সমীহের দৃষ্টি, দাবি-আন্দোলনের
অ্যাডভেঞ্চার। হু-ম-ম-ম, চেতনার ডিলারশিপ নিয়ে নিল ছেলেটা। কেন রাজনীতিতে আসতে চাচ্ছে, বড়ভাইয়ের এই প্রশ্নের উত্তরে ছেলেটি জবাব দিয়েছিল — ভাই,
আমি ইঁদুরের মতাে বাঁচতে চাই না।
আর চেতনার সাথে একটু এসব না হলে চলে? এসবের সাথে একটু ‘ ওসব না হলেও ‘ সেসব ’ তাে লাগেই। না হলে রাজনীতি জমেই না মােটে।
দ্বিতীয়_ফোঁটা
প্রথম ব্যাচে লেবাস-পােশাকে হুজুর একজনই। চোখে পড়তেন না তেমন। করিডোর ধরে হেঁটে যেতেন শান্ত, সমাহিত, মাথানিচু করে। পিঠে থাকত পুরােনাে আমলের একটি ব্যাগ। কথা হয়নি কখনাে। দ্বিতীয় ব্যাচে সবাই নেতা। আমাদের আলােচ্য
ছেলেটার ব্যাচে পােশকী হুজুর নেই, চতুর্থ-পঞ্চম ব্যাচেও না। ষষ্ঠ ব্যাচে হঠাৎ করে ৫ টা জবরদস্ত হুজুর এসে পড়েছে। ডিলারশিপের আওতায় ‘ মুরগি ধরা ’ একটা দায়িত্ব। কিন্তু এই কতগুলাে মুরগি, যাদের ধরা যায় না। এদের পােশাক এদের রক্ষা
করে দুই গ্রুপের টানাটানি থেকে, বাতিলের দৃষ্টি থেকে। পােশাকের শক্তি। কেউ একজন এদের রক্ষা করছে আমাদের শ্যেণদৃষ্টি থেকে। রুমের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।
আমাদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই।
আগে ছিল একজন, এখন হলাে ৬ জন। এখন চোখে পড়ে বেশি, বার বার। নতুন কিসিমের মানুষ। এতদিন জানতাম, মাদ্রাসার ছেলেরা দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবীওয়ালা।
এখন দেখি মেডিকেলেও। ছেলেটার ব্যাচে আলিয়া মাদ্রাসা থেকে একটা ছেলে এসেছিল। দাড়ি আছে, শার্টপ্যান্ট পরে। কিন্তু এই হুজুরগুলাের মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডও
নেই। এতদিন একটা লজিক দাঁড় করিয়েছিল ছেলেটা। আল্লাহ জিজ্ঞেস করলে বলবে — ‘ মালিক, আপনি আমাকে মাদ্রাসায় পড়ালে টুপি-দাড়ি-পাঞ্জাবি পরতাম।
আপনি আমাকে পড়িয়েছেন ডাক্তারি। তাই টাখনুর উপর প্যান্ট-দাড়ি-টুপি এসব রাখিনি। এখন দেখা যাচ্ছে — #লজিকটা মার খেয়ে যাচ্ছে।ছেলেটা তার কল্পনার
চোখে স্পষ্ট দেখতে পায়, আল্লাহ এই ৬ টার একটাকে সামনে এনে বলছেন — এও
তাে মাদ্রাসায় পড়েনি। এ তত পেরেছে। তুমি এমন কী হয়ে গিয়েছিলে যে পারনি?
কী জবাব দেবে ছেলেটা তখন? আছে কোনাে জবাব?
#টীকা:-কিয়ামত দিবসে পৃথিবীর কোন #লজিকই কোন কাজে আসবে না।এখনের সাজানো প্ল্যান সেই কঠিন মুহূর্তে স্মরণেও আসবে না। এরপরও মানুষ তাে কত স্বপ্নই দেখে আর কত লজিকই রচনা করে ব্রেইনে
গেথে রাখে। আশাগুলাে সেদিন হয়ে যাবে দুরাশা, স্বপ্নগুলাে হবে শুধুই মরীচিকা। শরয়ি সম্পাদক
তৃতীয়_ফোঁটা
মুরগি ধরার একটা স্ট্রাটেজি হলাে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে ওঁৎ পেতে থাকা। যেসব মুরগি সরাসরি কোনাে গ্রুপে আসতে চায় না, তাদেরকে সাংস্কৃতিক উইং-এর সদস্য বানিয়ে কর্মী না হােক, স্রেফ সমর্থক বানিয়ে রাখা। আরেক গ্রুপও
নিতে পারল না, আবার কাজেকর্মেও পাওয়া গেল। কলেজে কালচারাল প্রোগ্রাম বলতে সারা বছরে দুইটা। ছেলেটার গ্রুপ করে সরস্বতী পূজার প্রোগ্রাম, আর বিপরীত।
গ্রুপ করে 'সন্ধানী বার্ষিক প্রােগ্রাম। ধর্ম যার যার, স্বরস্বতী পূজা সবার। হিন্দুরা কমিটিতেই আছে। স্টেজ সাজানাে, পারফর্ম করা, গেট সাজানো, মূর্তি ধরে এনে।
স্থাপন করা—এগুলাে মুসলিমদেরই কাজ। নামাজ-রােজা খুব একটা না করলেও পূজার কাজে উৎসাহের অন্ত নেই তাদের। ছেলেটার আবার ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবাদে কো-কারিকুলারের তালিম ছিল ভালােই। এখন বেশ কাজে লাগছে।
কাল পূজা। বিকেলে কালচারাল প্রােগ্রাম। পুরাে কলেজ সাজানাে হচ্ছে। বিদ্যার দেবী বলে কথা। স্টেজ ডেকোরেশনের জন্য বিশাল স্বরস্বতীর মূর্তি আঁকা হচ্ছে।
ছেলেটা আরও দুই মুসলিম সিনিয়রের সাথে আঁকছে। এর পিছনে লাইট ফেলে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ স্টেজটা বানানাে হচ্ছে এবার। ওদের সন্ধানীর স্টেজকে বেশ টেক্কা দেওয়া হবে। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ব্রাশ করতে করতে বাইরে উঁকি দিল। হুজুরগুলাের হাতে কোদাল, ঝুড়ি। কী ব্যাপার? ওওও, আচ্ছা। হােস্টেলে
ডাইনিং-এ ছােট্ট জায়গা নিয়ে মসজিদটা অস্থায়ী । বড় মসজিদ চাই। হুজুররা আরও কিছু হুজুরমনাদের সাথে নিয়ে নেমে পড়েছে জায়গা সাফ করতে। হােস্টেলের সারা বছরের আবর্জনায় মেখে একেকজন যাচ্ছেতাই অবস্থা।
এরা মসজিদ বানানাের জন্য ময়লা মাখাচ্ছে গায়ে, আর ও কিনা সরস্বতীর ছবি একে ময়লা হচ্ছে?—ময়লা হচ্ছে তাে দুজনই। অথচ কী আকাশ-পাতাল তফাৎ।
এক নিমেষে মাত্র চিন্তাটা উঁকি দিয়েই হারিয়ে যায়। মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে ছবি আঁকায় ফিরে যায় আমাদের ছেলেটি।
চতুর্থ_ফোঁটা
ফার্স্ট ব্যাচের এক সিনিয়রকে জঘন্য লাগত ওর। ওভার-এক্সপ্রেশান। টেবিল টেনিস খেলছেন তাে খেলেন ভাই, এত টেবিল থাপড়ানাে, চিল্লাচিল্লি করার কী আছে?
টিটি টেবিলটা আবার ছেলেটার রুমের পাশেই। যা করছে, তার দশগুণ চিল্লাপাল্লা, শাে-অফ। বিরক্তিকর। ফাইনাল পরীক্ষার পর ভাইকে অনেকদিন দেখা যায় না।
যাক, কটা দিন শান্তিতে থাকা গেল, যত্তোসব। হঠাৎ একদিন ভাইকে দেখা গেল।বড় দাড়ি, টুপি,পাঞ্জাবি, মাঝে মাঝে পাগড়ি। কী ব্যাপার?তাকে দেখে আগের মতো বিরক্ত লাগছে না কেন?হাসি দিয়ে প্রথম কথা বললেন "তোমাদের বিভিন্ন সময় কষ্ট দিয়ে থাকতে পারি, মাফ করে দিয়াে ভাই"।
ঘুরে গেল মাথাটা। গা-জ্বলা লােকটা কোন জাদুতে প্রিয়দর্শন হয়ে গেল! ভাইয়ের রুম থেকে মসজিদে যাবার পথে ওদের রুম পড়ে। যেতে যেতে শান্ত সুরে ভাই ডেকে যেত — আসো ভাই, জোহরের নামাজ, এশার নামাজ। ফাহিম, সােহেল, আসাে ভাই।
কোনাে চেঁচামেচি নেই, কণ্ঠভরা মায়া, যেন কেঁদে কেঁদে ডাকছে কেউ। আমাদের ছেলেটাকে তাবলিগের ছেলেরা দাওয়াত দিতে আসত না। হয়তাে ‘ গণ-কেস ’ মনে করত।
ভাই এসে মাঝে মাঝে ফাহিমকে মসজিদে যাবার দাওয়াত দিয়ে যেত। কিন্তু ভাইয়ের এই প্রতি ওয়াক্তে হেঁটে যাওয়াটাই আমাদের ছেলেটার জন্য মারাত্মক এক দাওয়াত ছিল, ভাই জানতও না। সুন্নাহ নিজেই দাওয়াত। আপাদমস্তক সুন্নাহ নিয়ে কেউ হাঁটবে, আশপাশের লােকেরা দাওয়াত নিতে থাকবে।সে দাওয়াত জবানের চেয়ে স্পষ্ট, ভাষার চেয়ে শক্তিশালী।
পঞ্চম_ফোঁটা
তখন ফাইনাল ইয়ার। ছেলেটা রুমমেটদের সাথে সারারাত তাস খেলত, আর সারাদিন ঘুমাত। ক্লাসে যেত না। ৭৫ % উপস্থিতি না থাকলে ফাইনালে বসতেই পারবে না — সে চিন্তা ছিল না ওদের। ভাবত, এত বছর রাজনীতি করেছি, নেতাদের
সেবা করেছি। পরীক্ষায় বসতে না দিলে ‘ কাবজাব ’ দিয়ে প্রেসারাইজ করে বসে পড়ব। আর বসতে পারলেই একমাসে সব পড়ে উল্টায়ে দেবাে। আর বাই চান্স কোনাে ভাইভা একটু খারাপ হলে পলিটিক্যাল ‘ জ্যাক ’ দিয়ে তাে উতরানাে যাবেই।
অবশ্য ব্যাচে কেন জানি ওদের ‘ মেধাবী ’ বলে সুনাম ছিল। কিন্তু মেডিকেলে মেধার চেয়ে জরুরি হলাে অধ্যবসায়। বুঝবে বাছাধন, বুঝবে।
রুমমেট মুজাহিদের জ্বালায় ওরা অতিষ্ঠ। কমবখতের শরীরটা পাহাড়ের মতাে বলে ওকে বেশি কিছু বলাও যাচ্ছে না। ইজতিমা থেকে আসার পর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
পড়ছে, প্যান্ট টাখনুর উপর কেটেকুটে একাকার। তাও ঠিক আছে, সই। রাতে তাস খেলার সময় ১০ টা বাজলেই লাইট অফ করতে বলে। আর সারারাত তাস খেলে ফজরের আজান পড়লে ওরা যখন শুতে যাবে, তখন ডাকাডাকি শুরু করে।
দোস্ত, ওঠ, ঘুম থেকে নামাজ উত্তম, নামাজ পড়ে শাে ’, সৌর-সােহেল-ফাহিম।
উফ, পাহাড়ের সাথে ঝগড়াঝাটি করাও ঠিক হবে না। সারাদিন ঘুমকাতুরে কুম্ভকর্ণ মুজাহিদ তখন আমাদের সারাদিন নসিহতের উপর রেখেছে। হােস্টেলটার হলাে কী?
কী বড়ি খেয়ে চেনা মানুষগুলাে কী রকম জানি হয়ে যাচ্ছে, একদম অচিন মানুষ।
ষষ্ঠ_ফোঁটা
আজ একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে ছেলেটার সাথে। আজ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসােসিয়েশনের নির্বাচন ছিল। ছেলেটার গ্রুপের প্রিয় ডাক্তার নেতা বড় পােস্টে লড়ছেন। পুরাে গ্রুপ প্রেসক্লাবের সামনে বিএমএ অফিসে গিয়েছিল আজ। ফুলের মালায় বরণ করে নিল বিজয়ী নেতাকে। রাত ১১ টার দিকে সবাই ক্যাম্পাসে ফিরছিল। পেয়ে গিয়েছিল ফাঁকা একটা ৮ নম্বর বাস। আসাদগেট আড়ং-এর মােড়ে
ধানমণ্ডির দিক থেকে ট্রাকটা আসছিল ফুল স্পিডে। বাসে ওঠার সময়ই ড্রাইভারটাকে গড়বড় মনে হচ্ছিল। ছেলেটা, ফাহিম আর মিঠুন ভাই ছিল ড্রাইভারের বামপাশের
মহিলা সিটে। ওরা দেখছে ট্রাকটা স্পিড কমাচ্ছে না, বাসওয়ালাও পিনিকে ডানে কাটছে না, সামনেই যাচ্ছে। সবাই হই-হই করে উঠল একসাথে, চিৎকারে ড্রাইভার কিছুটা হুঁশ ফিরে পেল বােধহয়। পুরাে ডানে কাটার চেষ্টা করল। ভালাে একটা ঘষা দিয়ে বেরিয়ে গেল ট্রাকটা।
ক্যাম্পাসে পৌঁছে সবাই ড্রাইভারটাকে পিটিয়ে পুলিশে দিচ্ছে। অন্য সময় হলে ছেলেটাও সােৎসাহে শরিক হতাে। আজ সে সবাইকে ফেলে হাঁটা দিয়েছে।
হােস্টেলের দিকে। পিছনে উন্মত্ত জটলা রেখে, ধীরপায়ে। যেন ঝড়ের বিপরীতে হাঁটছে, ঝড় তাে হচ্ছেই কোথাও। সব ঝড় কি দেখা যায়?
সপ্তম_ফোঁটা
খবরটা হলাে, ওরা পরীক্ষায় বসতে পারছে না এবার। ৭৫ % উপস্থিতি ছিল।
পরীক্ষায় বসার শর্ত। ৫০ % যাদের ছিল তারাও অনুমতি পেয়েছে। ১ ম লিস্ট, ২ য় লিস্ট, ৩ য় লিস্টেও নাম নেই ওদের। একেকজনের উপস্থিতি ৩০-৩৫ % এর বেশি না।
পাগলের মতাে ছুটছে নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে। কিন্তু কোনাে মেকানিজমেই কাজ হচ্ছে না। মিটিং হচ্ছে, কিন্তু স্যাররা নাছােড়বান্দা। না, ওদের বসতে দেওয়া হবে না, তাহলে পরের ব্যাচগুলাে আর ক্লাস করবে না। আর এবার টাইট দিলে
পরের ব্যাচগুলাে ক্লাস করবে ঠিকমতাে। কোনােভাবেই বসতে দেওয়া হবে না।
নেতারাও বলে দিল, ঠিক আছে। পরের বার বসাে।
পুরাে জীবনে ওরা কখনাে ফেল করেনি। ছেলেটা ক্যাডেট কলেজের। তিনজন নটরডেমের। একজন রাইফেলস পাবলিক, একজন বঙ্গবন্ধু কলেজের ফার্স্ট বয়।
যতটা না পরীক্ষায় বসা দরকার, তার চেয়ে বেশি ইমেজ ইস্যু। মা-বাবা জানলে,তার চেয়ে বেশি টেনশন — আত্মীয়স্বজন জানলে? এতটা কঠিন পরিস্থিতি কখনাে হয়নি জীবনে। পরীক্ষার বাকি আর ৮ দিন মাত্র। সিগারেটের ধোঁয়া সবাই দেখে,
অন্তর পােড়া ধোঁয়া দেখা যায় না।
বিকেলে দরজায় নক। তাবলিগের ভাইয়েরা এসেছে ফাহিমের কাছে। ছেলেটা শুয়ে শুয়ে শুনছে আর জ্বলছে, জ্বালাচ্ছে। আজ মাগরিবের পর পরীক্ষার্থীদের জড়াে করা হবে।
কাকরাইল থেকে মুরুব্বিরা আসবেন, এশা পর্যন্ত কথা হবে।এরপর খানাপিনা। প্রতি বছরই আয়ােজন হয় নাকি। যে ছেলেটা ডাকতে এসেছে তার শুরুর কথাগুলাে কেমন
যেন ... সবকিছু করনেওয়ালা সত্তা একমাত্র আল্লাহ। ততটুকুই হয়, যতটুকু আল্লাহর চান।
যাকে আল্লাহ হেফাজত করেন তাকে সারা পৃথিবী মিলে ক্ষতি করতে পারে না, যার ক্ষতি আল্লাহ করেন সারা পৃথিবীর সব শক্তি মিলে তাকে উপকার পৌঁছাতে পারে না ...।
বহুদিন পর মসজিদে এলাে ছেলেটা। চামড়ার মােজা পরা ছেলেটার কথাগুলাে অন্যরকম ছিল একদম। তাই তাে, যদি আল্লাহ না চান, কেউ বসাতে পারবে না পরীক্ষায় তাকে, কেউ না। মন দিয়ে বয়ানটা শােনে ও। একজন মুফতি সাহেব,
আগে ঢাকা ভার্সিটির ফার্মেসিতে পড়েছেন, পরে কওমিতে মুফতি পড়েছেন। আশ্চর্য সব কথা। সব কথার মাঝে নিজের একটা ঘটনা শােনালেন মুফতি সাহেব।
তারা ব্রাজিলে ছিলেন জামাতে। ধরুন, বড় একটা ঘর অন্ধকার। আপনার হাতে মােমবাতি।
ঘরে আরও কয়েকটা মােমবাতি আছে নেভানাে। আপনি যদি আপনার বাতিটা নিয়ে পুরাে ঘর ঘােরেন, আঁধার দূর হবে না। কিন্তু যদি নিভে থাকা মােমগুলাে জ্বালিয়ে
দেন, ঝলমল করে উঠবে সারা ঘর। তাবলিগের লােকেরা তাই গুরুত্বের সঙ্গেই বিদেশে থাকা মুসলিমদের দাওয়াত দেওয়ার মেহনত জারি রাখেন।
তাে ঘটনাটা হলাে, তাদের জামাত ব্রাজিলে চলছিল। মুসলমান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে, কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষমেশ একটা কবরস্থানে ঢুকে জিরিয়ে নিচ্ছিল
সাথিরা। হঠাৎ একটা কবর, নামফলক আরবি। মুসলমানের কবর। বাড়ি সিরিয়ায়।
পদবিটা টুকে নিয়ে সারা শহর খুঁজে ফিরল এই পদবির লােক। পাওয়া গেল ৮০ টা পরিবারের বিশাল এক মহল্লা, সবাই খ্রিস্টান, কিন্তু পদবিটা আছে। জামাত ওখানে
এক জায়গায় অবস্থান করে সব পরিবারে দাওয়াত পৌঁছাল। স্মরণ করিয়ে দিল—
আরে, তােমরা তাে মুসলিম, তােমাদের পূর্বপুরুষ মুসলিম, সিরিয়া থেকে এসেছিল।
অধিকাংশ পরিবার ইসলামে ফিরে এলাে। মােটামুটি ফরজটুকু শিখিয়ে, জামে মসজিদ বানিয়ে, রাজধানী থেকে ইমাম নিয়ােগ দিয়ে জামাত অন্য এলাকায় চলে গেল।।।
আরে, এটাই তাে কাজ। সেই পুরনাে স্বপ্নটা ফিরে এলাে ছেলেটার চোখো মানুষের উসিলা হবার সেই মেজাজ। চল্লিশ দিনের জন্য নাম লিখিয়ে দিল।
পরীক্ষার পর দীন শিখবে, দাওয়াত দেওয়া শিখবে, আল্লাহর থেকে চেয়ে নেওয়া শিখবে। আর দোয়া করল— “আল্লাহ, এবারের মতাে পরীক্ষায় বসিয়ে দাও চিল্লার জন্য যাব। বিয়ে করে ‘ ভালাে হয়ে যেতামই, তার আগেই ভালাে হয়ে যাব।
এই ঘটনা, শনিবার আবার মিটিং ডাকা হলাে। বিনা নােটিশে।
প্লিজ। বৃহস্পতিবার।
ইমার্জেন্সি মিটিং, যেটা হওয়ার কোনাে সম্ভাবনাই ছিল না। শনিবারই ফরম ফিলআপ
করলাম। পরীক্ষার বাকি মাত্র ৬ দিন। ওওও, চাওয়ার জায়গা তাহলে এটাই।
পরীক্ষা শেষ। বাপ-মাও রাজি। চল্লিশ দিন। ওদের মেডিকেলের ৫ জন। কাকরাইল থেকে সিরাজগঞ্জ শহরে। জামাতের আমির সাহেব আলিম। জীবনের শ্রেষ্ঠ ৪০ দিন।
২৫ বছরের জীবনে প্রথম বসে প্রসাব করা শিখল, বালেগ হবার পর প্রথম ফরজ গােসল শিখল। হাসছেন? হাসবেন না। ৯৫ % মুসলমানের বাচ্চার হাল এর চেয়ে।
খুব বেশি ভালাে না বােধহয়। ১০ টা সুরা একদম সহিহ-শুদ্ধ হলাে, দাওয়াত দেওয়া শিখল, নতুন করে কুরআন পড়া শিখল, ঘুম-খাওয়া-বাথরুম এসবের মাসনুন দোয়া
মুখস্থ হলাে, জিকির-তাহাজ্জুদের অভ্যাস হলাে, আর শিখল— “শিক্ষার পরিপূর্ণতার জন্য মােট ১২০ দিন লাগবে। ততদিনে সুখ পেয়ে গেছে। বুঝেছে এটাই কাঙ্ক্ষিত
লাইফ ফরম্যাট। আবার ৪০ দিন, এবার জামাতের আমির আমাদের ছেলেটা, গন্তব্য যশাের।
জামাতের সাথিরা যত দুষ্টুমি করে, আমিরের সম্পর্ক আল্লাহর সাথে তত
বাড়ে। কিছু হলেই দুই রাকাত নামাজের অভ্যাস হলাে— “ইয়া আল্লাহ, সাথিদের
শয়তান থেকে হেফাজত করাে। জোড়মিল দিয়ে দাও।
এর মধ্যে রেজাল্ট হয়ে গেল। তিন সাবজেক্টের তিন ত্রিকে নয়টা পরীক্ষা-লিখিত,ব্যবহারিক, ভাইভা। ২ টার ভাইভাতে ফেল আমাদের হিরাে। ৬০ এ পাশ, হিরাে
একটার ভাইভাতে ৫৭, একটাতে ৫৮। নেতা সবগুলাে ফেল। যেগুলাে ওই শেষদিন।
পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছিল, সব ক'টা। স্যাররা বললেন, তােমাদের অনেক পাশ করিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু যারা এতদিন রেগুলার ক্লাশ করেছে তাদের সাথে।
অবিচার হতাে। ২০ দিন পর ফিরে আসতে হলাে। সাথিদের সে কি কান্না! নিজের।
ভাই মরে গেলেও এত কাঁদে না মানুষ। বাসে ফেরার পথে আশ্চর্য এক অভিজ্ঞতা হলাে ছেলেটার। বাসে জোরে গান বাজছে, কিন্তু কানের ভিতর ঢুকছে না, মনে হচ্ছে কানের
আল্লাহ পাশ দিয়ে শব্দগুলাে চলে যাচ্ছে। ফেল করেও কোনাে দুঃখ। নেই।
এর মধ্যেই হয়তাে ভালাে কিছু রেখেছেন হয়তাে পাশের যােগ্য ছিল না সে ।।
হয়তাে আবার কী? আসলেই তাে পড়া হয়নি কিছুই। ৩ মাস পর সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা।
মেডিসিন-সার্জারি পড়ে তামা তামা করে ফেলতে হবে এবার।
পরীক্ষা শেষে? ১২০ দিন তাে পুরাে হয়নি। আবার ওই পথেই। দেশি-বিদেশি জামাতের সাথে, কত মানুষ! কত গুণ! কতকিছু শেখা! বড় বড় কিছু জরুরি সুরা মুখস্থ হয়ে গেল, তাহাজ্জুদে পড়াও যাবে, অজিফা হিসেবে পড়াও যাবে। দাওয়াতে
আরও পরিপক্কতা এলাে। জীবনের প্রথম খতম হলাে কুরআন। ইসলামি জীবন অভ্যাসে এসে গেল। অসুখ কম হলে ঘরেই সারে, কিছু অসুখের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরিবেশ সবচেয়ে বড় জিনিস। ১২০ দিন এই পরিবেশেরই নাম,
মসজিদের পরিবেশ। এখন দরুদ পড়লে মুখে মিষ্টি টের পায় ছেলেটা, তাহাজ্জুদে লম্বা সুরা আর চোখের পানি, আর নিঃশ্বাসে মিন্ট ফ্লেভার। হায়, তােমরা যদি জানতে! এখন অবশ্য সে ফিলিংস আর নেই।
ইন্টারের রসায়ন ব্যবহারিকে ‘ টাইট্রেশন’বলে একটা কথা আছে। লবণ নির্ণয় করা।
ফোঁটা ফোঁটা কী জানি ফেলে শেষ ফোঁটায় রঙ পরিবর্তন হয়। নীল হলে কপার সালফেট, এটুকু মনে আছে। কয় ফোঁটা গেল মনে রাখতে হয়, ঘনত্ব হিসাব করার জন্য।
হিদায়াত হলাে টাইট্রেশন। ফোঁটা ফোঁটা পড়তে পড়তে শেষ ফোঁটায় জীবন পরিবর্তন, রাস্তা পরিবর্তন। এজন্য কেউ জীবনের পরিবর্তন চাইলে বেশি বেশি ফোঁটা
নিতে হবে — ভালাে কিতাব, দীনি বন্ধুর সাহচর্য, আলিমগণের সােহবত, মসজিদের পরিবেশ, দাওয়াত — এগুলাে ফোঁটার জায়গা। কেউ জানে না কয় ফোঁটা লাগবে, তাই
বেশি বেশি ফোঁটা ফেলুন। আর দোয়া তাে আছেই, নামাজে সুরা ফাতিহার ‘ ইহদিনাস সিরাতল মুসতাকিম ’ পড়ার সময় বেশি করে আবেগ ঢালুন, করেই দেখুন না।
শায়খ জুলফিকার আহমদ নকশবন্দি দা. বা. একটা দোয়া করেন—
“ইয়া আল্লাহ, অনেকটা সময় চলে গেছে জীবনের। তােমার থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম। বহত দূর সে আয়া হ্, বহত দের মে আয়া হ্, আয়া তাে সহি।
অনেক দূর থেকে এসেছি, অনেক দেরী করে এসেছি। এসেছি তাে। মাফ করেই দাও, মালিক।”
ছেলেটার কাছে আসার গল্প ’ আজ এপর্যন্তই। অন্য ফোঁটাগুলাে অন্য কোনাে দিন শােনাবাে আপনাদের।
ছেলেটা এখন দুনিয়ার কটা দিন ইঁদুরের মতােই বাঁচতে চায়।
পরবর্তী_পর্বঃ-
এবং ফিরেছি আমিও:ওমর আল জাবির

0 Comments